ব্লগ তৈরি করে আয়

কিভাবে ব্লগ তৈরি করে অনলাইনে আয় করা যায়?

একটি ব্যক্তিগত ব্লগ সাইট প্রকাশ করে নিয়মিত তাতে লেখা প্রকাশ করা এখন আর শুধু ব্যক্তি বিশেষের শখ পূরণের মাধ্যমে সীমাবদ্ধ নেই। বিশেষ করে তরুণ সমাজের জন্য।

বর্তমানে বড় জেলা শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রামে ইন্টারনেট সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য হবার সুযোগ নিয়ে তরুণ প্রজন্ম অনলাইনে টাকা আয় করার বিষয়ে অনেক বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছে।

আমাদের আজকের লেখাটি একটি ব্যক্তিগত ব্লগ তৈরি করে অনলাইনে আয় করার উপায় বা পদ্ধতি সম্পর্কিত বিষয়বস্তু নিয়ে সাজানো হয়েছে।

ব্লগ সাইট তৈরি করার প্রয়োজনটা কি?

বর্তমান যুগ তথ্য ও প্রযুক্তির চরম উৎকর্ষতার যুগ।

শিশু, বৃদ্ধ থেকে শুরু করে সব বয়সের, শ্রেণী-পেশার মানুষ এখন সর্বস্তরে, সম্ভাব্য সকল মাধ্যমে তথ্য ও প্রযুক্তির সহযোগীতা নিয়ে জনপ্রিয় ওয়েবসাইটে বা ব্যক্তিগত ব্লগ তৈরি করে, সোস্যাল মিডিয়ায় নিজেকে বা নিজের পণ্য, প্রকাশনা বা শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতি, রাজনীতি বা ক্রীড়া বিষয়ক তথ্য, জাতীয় বা আন্তর্জাতিক ঘটনাপ্রবাহের প্রতিক্রিয়া প্রভৃতি বিশ্ব দরবারে যতটা সম্ভব আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপনের প্রতিন্দ্বন্দীতায় ব্যস্ত।

বিশ্বের ছোট-বড় সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতেও দেখা যায় ঠিক একইভাবে বছরজুড়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠানের প্রচার কার্যক্রম নিয়ে তাদের ব্যস্ততা বেড়েই চলেছে।

সাফল্য, সফলতার চূড়ায় উঠা, অন্যকে ডিঙ্গিয়ে বা পরাজিত করে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের এই প্রতিযোগীতার যেন শেষ নেই, সীমা নেই।

আপনিও কিন্তু এই প্রতিযোগীতারই একটি অংশ। আপনি স্বীকার করুন বা নাই করুন- মনের গহীন কোনে অন্য সবার মত আপনারও সফলতা প্রাপ্তি বা সফল হবার ইচ্ছা খুব জোড়ালোভাবেই আছে।

শুধুমাত্র সঠিক দিক-নির্দেশনার অভাবে আপনি এগিয়ে যেতে পারছেন না।

হয়ত শিক্ষা বা ঘুঁষের জোরে একটি আঠপৌঁড়ে চাকরি যোগার করতে পেরেছেন। কিন্তু সে চাকরীতে আপনি মোটেও সন্তুষ্ট নন।

কেননা গতবাঁধা জীবনের গ্যাঁড়াকলে পরে, দিন-রাত বসের ধমক আর তাগাদা শুনতে শুনতে মনটা বিঁষিয়ে উঠেছে।

বৈচিত্র পিয়াসী মন, চায় কি যে সারাক্ষণ

আপনি এই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি চাইছেন। কিন্তুু পারছেন না। কারণ, আপনার উপর নির্ভরশীল আপনার পরিবার।

তারপরও-

এই আপনার সামাজিক প্রোফাইল ঘাঁটলে দেখা যায়- আপনি আপনার ইচ্ছা-অনিচ্ছা, ভাল লাগা, মন্দ-লাগা, নিত্যদিনের যাপিত জীবনের অনেক না বলা কথা প্রতিনিয়ত চেনা-অচেনা সবার সাথে বিনিময় করছেন।

ফেসবুকে আপনাকে প্রতিদিন একবার না একবার ঢুঁকতে হবেই। প্রতিদিন কিছু না কিছু লিখতে পারাটা আপনাকে মানসিকভাবে কিছুটা শৃঙ্খলমুক্ত হতে পারার স্বাধীনতা উদযাপনের সুযোগ করে দেয়।

আপনি কি লক্ষ্য করেছেন- আপনার এই অতিরিক্ত সামাজিক হওয়ার নেশা আপনার কতটা সময় ও অর্থের অপচয় ঘটায়?

অথচ, কি লাভ হচ্ছে তাতে? আপনার হৃদয় নিংড়ানো কথাগুলো হয়তো ফেসবুকের টাইমলাইনে সর্বোচ্চ ১ মিনিট থাকবে।

কারণ অনেক বন্ধুদের নিয়মিত লেখার ক্রমবর্ধমান স্রোতধারায় আপনার লেখাটি খুব বেশিক্ষণ টাইমলাইনে থাকার উপায় নেই।

আর আপনার প্রোফাইলে ঢুঁ মেরে আপনার তথাকথিত ফেসবুক বন্ধুরা সেই লেখাগুলো পড়বে- এতো সময় কার হাতে আছে বলুনতো?

অপরদিকে আপনি বা আপনার আপনজন কেউ হয়ত শিক্ষাজীবন সফলভাবে সম্পন্ন করার পরও বেকার বসে আছেন বা চাকুরী করে অথবা ব্যবসা করে খুব একটা সফল হতে পারছেনা।

প্রতিদিন, দিন শেষে রাত হলে বিছানায় মাথা রেখে হিসেব করে দেখেন আর নিজেকে প্রশ্ন করেন- জীবনটা কি এইভাবেই শেষ হয়ে যাবে!

ব্যক্তিগত ব্লগ আপনার সর্বোৎকৃষ্ট আয়ের উৎস হতে পারে

আসুন জেগে উঠি, নতুন কিছু করি

মনের জানালাটা খুলে একটু বাইরের জগতটাকে ভাল করে আবিষ্কার করার চেষ্টা করুন।

আজ আমাদের পাশের দেশের অর্থাৎ ভারতের উদাহরণটাই একটু লক্ষ্য করে দেখুন। আপনি আপনার চোখকে বিশ্বাস করতে পারবেন না।

নিচে একটি পরিসংখ্যান দেয়া হলো। পরিসংখ্যানটি নেয়া হয়েছে updatereviews.in সাইট থেকে।

উপরে যাদের মাসিক আয়ের পরিসংখ্যান দেয়া হয়েছে তাদের সবার আয়ের উৎস হচ্ছে তাদের প্রতিষ্ঠিত ব্লগ সাইট।

যে ব্লগ সাইটগুলো তারা দীর্ঘদিন ধরে একটু একটু করে গড়ে তুলেছেন। এ কাজে তাদের অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে, সময় দিতে হয়েছে।

পড়ুন- ব্লগ কি ও কেন প্রয়োজন?

এই কঠিন পৃথিবীতে সফল হতে হলে একটু পরিশ্রম তো যে কোন কাজ বা ব্যবসায় করতে হবেই। তবে সঠিক পথে পরিচালিত এই পরিশ্রমের ফসলটা একটু দেখুন।

হালালভাবে সাধারণ ব্যবসা বা চাকরী করে কি এমন উপার্জন সম্ভব?

আমি নিশ্চিত শতকরা ৯৯ জনই বলবেন সম্ভব নয়।

অথচ একটি তথ্যসমৃদ্ধ, মানসম্পন্ন ব্লগ সাইট তেরি করে আপনিও কিন্তু এমন একটা উদাহরণ সৃষ্টি করতে পারেন।

আপনার যে উপার্জনে আপনার সবচাইতে সেরা নিন্দুকও প্রশ্ন তুলতে পারবেনা।

কারণ আপনার এই উপার্জন হবে শতভাব নির্ভেজাল হালাল।

বাংলাদেশে ব্লগ তৈরি করে সফল যারা

আমাদের বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেই এমন উদাহরণ খুঁজে পাবেন।

সম্পূর্ণ বাংলা ভাষায় প্রযুক্তি বিষয়ক ব্লগ techtunes.co আপনাকে প্রেরণা দানে যথেষ্ঠ।

সুতরাং কেন আর বসে বসে ভাববেন আর সময় নষ্ট করে দুঃসহ জীবনের বোঝা বয়ে বেড়াবেন। আসুন চেলেঞ্জিং কিছু করে জীবনটাকে সম্পূর্ণ পাল্টে নিই।

আসুন আমরাও একটি ব্লগ তৈরি করি

প্রথমেই জেনে নেয়া যাক-

কিভাবে ব্লগ তৈরী করব?

একটি ব্লগ সাইট তৈরি করার জন্য কি কি প্রয়োজন?

একটি ব্লগ সাইট তৈরি ও তা অনলাইনে প্রকাশ করার জন্য যে সকল কাজ করা প্রয়োজন তার একটি লিস্ট আমি নিচে দিচ্ছি এবং সেই লিস্টের সাথে লিংকে যুক্ত প্রাসঙ্গিক লেখাতে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

১। আপনার ব্লগ এর নাম দিন এবং সেই নামে ডোমেইন রেজিস্ট্রেশন করুন।

একটি সম্পূর্ণ নতুন ব্লগ তেরি করার আগে যে বিষয়টি সর্বপ্রথম বিবেচনায় নিতে হয়, তা হচ্ছে- আপনার ব্লগের নামটি কি হবে?

এটি নির্ভর করবে আপনি কি বিষয়ে আপনার ব্লগে লিখবেন তার উপর।

আপনি যদি কোন বিষয়ে পারদর্শী হন তবে সে বিষয়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে আপনি আপনার ব্লগের ডোমেইন নেম রেজিস্ট্রশন করে নিতে পারেন।

এক্ষেত্রে বিষয়বস্তু স্বতন্ত্র বা অন্যদের থেকে আলাদা হলে ব্লগের জনপ্রিয়তা তৈরি, ধরে রাখা ও সময়ের সাথে সাথে উত্তরোত্তর বৃদ্ধি করার ক্ষেত্রে কার্যকর ফলাফল প্রদান করবে।

এক্ষেত্রে এমন একটি নাম নির্বাচন করতে হবে, যা পড়ে যেকোন সাধারণ মানুষ বুঝতে পারে এতে কি কি বিষয়ের তথ্য পাওয়া যাবে।

ডোমেইন রেজিস্ট্রশনের জন্য সংক্ষিপ্ত এবং সহজে মনে রাখা যায় এমন একটি নাম নির্বাচন করবেন।

পড়ুন- ডোমেইন রেজিস্ট্রেশনের প্রয়োজনীয়তা কি?

২। আপনার ডোমেইনটি হোস্ট করার জন্য একটি ওয়েব হোস্টিং সেবা প্রদানকারীর কাছ থেকে ওয়েব হোস্টিং স্পেস বা জায়গা কিনুন।

পড়ুন- ওয়েব হোস্টিং কি ও কেন প্রয়োজন?

এছাড়া সর্বোৎকৃষ্ট মানের ওয়েব হোস্টিং সার্ভিস কেনার জন্য বাংলাদেশের সেরা তিনটি ওয়েব হোস্টিং কোম্পানির অফার সমূহ জানতে পড়ুন –

Compare Best and Cheap Web Hosting Offers in Bangladesh

আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত শ্রেষ্ঠ ওয়েব হোস্টিং সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্য থেকে আপনার প্রয়োজন ও বরাদ্দকৃত বাজেটের প্রতি লক্ষ্য রেখে নিচে উল্লেখিত প্রধান ৩টি হোস্টিং প্রোভাইডার এর কাছ থেকে ওয়েবস্পেস কেনার ব্যাপারটা বিবেচনা করে দেখতে পারেন।

  1. HostGator.Com (ব্যক্তিগত বা পেশাদার ব্লগারদের জন্য প্রথম পছন্দের ওয়েব হোস্ট)
  2. InMotionHosting.Com (ব্যবসায়িক বা কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট হোস্টিং করার জন্য সেরা)
  3. NameCheap.Com (সাশ্রয়ী ডোমেইন রেজিস্ট্রার ও উচ্চ মানসম্পন্ন দ্রুতগতির ওয়েবসাইট হোস্টিং প্রতিষ্ঠান)

সর্বোচ্চ সুরক্ষা, গতি ও পারফর্মেন্স এর জন্য VPS সেবা নিতে পারেন।

৩। একটি ব্লগিং প্ল্যাটফর্ম নির্বাচন করে (ওয়ার্ডপ্রেস বা সিএমএস) আপনার হোস্টিং একাউন্টে ইন্সটল করে নিন।

হোস্টিং সার্ভিস কেনার পর যে কাজটি আপনাকে করতে হবে তা হচ্ছে- ওয়েব হোস্টিং কন্ট্রোল প্যানেল (সিপ্যানেল, প্লেস্ক বা ডাইরেক্টএডমিন) -এ লগইন করে সফট্যাকুলাস অটো ইনস্টলার ব্যবহার করার মাধ্যমে আপনার হোস্টিং স্পেস এর রুট ফোল্ডারে ওয়ার্ডপ্রেস ইনস্টল করে নিন।

সাধারণত সিপ্যানেল (Cpanel) কন্ট্রোল প্যানেল যুক্ত লিনাক্স ওয়েব হোস্টিং সার্ভিস কেনাটাই যুক্তিযুক্ত। আজকের এই টিউটোরিয়ালে সিপ্যানেল ওয়েব হোস্টিং কন্ট্রোল প্যানেল ব্যবহার করে ব্লগ তেরি করার বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

সিপ্যানেল এর লগইন স্ক্রিণটি দেখতে নিচের চিত্রের মতো দেখাবে।

সিপ্যানেল লগইন স্ক্রিণ
সিপ্যানেল লগইন স্ক্রিণ

উপরের চিত্রে ইউজার নেম (Username) ও পাসওয়ার্ড (Password) এর জায়াগায় ওয়েব হোস্টিং সার্ভিস প্রোভাইডারের দেয়া ইউজার নেম ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে লগইন করতে হবে।

সিপ্যানেল কন্ট্রোল প্যানেলে লগইন করা হলে যে পেজটি খুলবে তার নিচের দিকে সফট্যাকুলাস অটো ইন্সটলার খুঁজে পাবেন।

সফট্যাকুলাস এপ্স ইন্সটলার (Softaculous Apps Installer)
সফট্যাকুলাস এপ্স ইন্সটলার (Softaculous Apps Installer) লিখিত আইকনে ক্লিক করুন

এরপর সফট্যাকুলাস পেজ ওপেন হলে নিচের স্ক্রিণের মতো একটি পেজ দেখতে পাবেন।

সফট্যাকুলাস এপ্স ইন্সটলার পেজ
সফট্যাকুলাস এপ্স ইন্সটলার পেজ থেকে ওয়ার্ডপ্রেস এর লগোতে (W) ক্লিক করুন

উপরের ছবিতে প্রাপ্ত ওয়ার্ডপ্রেস এর লগোতে (W) ক্লিক করা হলে যে পেজটি খুলবে তাতে (Install Now) বাটনে ক্লিক করুন।

ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটলার পেজ এর Install Now বাটনে ক্লিক করুন
ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটলার পেজ এর ডান দিকে নীচে Install Now বাটনে ক্লিক করুন
ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটলার পেজে যথাযথ তথ্যাদি দ্বাড়া ফর্মগুলো পূরণ করুন
ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটলার পেজে যথাযথ তথ্যাদি দ্বাড়া ফর্মগুলো পূরণ করুন

সবগুলো ফর্ম সঠিকভাবে পূরণ করে ঐ পেজের নিচের দিকে প্রাপ্ত ইন্সটল বাটনে ক্লিক করুন।

ইন্সটল বাটনে ক্লিক করে ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল করে নিন
ইন্সটল বাটনে ক্লিক করে ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল করে নিন

উপরে চিত্রের মাধ্যমে সংক্ষেপে সফট্যাকুলাস অটো ইন্সটলার ব্যবহার করে ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল করার পদ্ধতি বলা হয়েছে।

আপনি ইচ্ছে করলে এ বিষয়ে আরো পরিষ্কারভাবে জানার জন্য আমাকে ইমেইল করে সাহায্য চাইতে পারেন।

এছাড়া কিভাবে সফট্যাকুলাস ব্যবহার করে ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল করা যায় তার উপর অনলাইনে প্রচুর টিউটোরিয়াল আর্টিকেল ও ভিডিও পাওয়া যায়।

আপনি গুগল ও ইউটিউব সার্চ করে তেমন একটি টিউটোরিয়াল খুঁজে শিখে নিতে পারেন অথবা আমাকে সাহায্যের জন্য সুযোগ দিতে পারেন।

সিদ্ধান্তটা সম্পূর্ণ আপনার।

প্রাসঙ্গিক লেখাটি পড়ে দেখতে পারেন – ওয়ার্ডপ্রেস কি, কেন শিখব এবং ওয়ার্ডপ্রেস শিখে কিভাবে আয় করা যায়?

৪। আপনার ব্লগের বিষয়বস্তু বা নিস অনুযায়ী আর্টিকেল প্রকাশ করে বিভাগ অনুযায়ী সাজিয়ে রাখুন।

অনলাইনে ব্লগ তৈরি করে আয় করার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে জনপ্রিয় এবং একই সঙ্গে প্রচুর চাহিদা সম্পন্ন বিষয়ের উপর ভিত্তি করে আর্টিকেল তৈরি করা ও সেই লেখাগুলো বিভাগ অনুযায়ী সাজিয়ে রাখা।

এখানে চাহিদা বলতে সেই সমস্ত বিষয়কে বোঝানো হয়েছে যেগুলো প্রধানত প্রচুর দর্শক আকৃষ্ট করতে পারে।

আপনি আর্টিকেল লেখার জন্য কি বিষয় বেছে নেবেন তা নির্ভর করবে সে বিষয়টি সম্বন্ধে আপনি কতটুকু জানেন এবং বুঝেন তার উপর।

দর্শকদের সুবিধার্থে আপনি আপনার লেখাগুলো অবশ্যই বিভাগ বা Category অনুযায়ী প্রকাশ করে প্রতিটি বিভাগের লিংক সমৃদ্ধ একটি তালিকা বা লিস্ট মেনুবার, সাইটবার বা আপনার পছন্দ অনুযায়ী জায়গায় সাজিয়ে রাখবেন। এতে করে আপনার ব্লগে ভিজিট করা দর্শক খুব সহজেই তার প্রয়োজন অনুযায়ী বিষয় ভিত্তিক লেখা খুঁজে বের করে পড়তে পারবে।

কেননা, আপনার জানা বিষয়গুলো নিয়ে ব্লগে তথ্য সমৃদ্ধ লেখা নিয়মিত প্রকাশ করতে সক্ষম না হলে বা প্রকাশিত লেখা দর্শক খুঁজে বের করে পড়তে না পারলে তা দর্শক মনে আগ্রহ সৃষ্টি হবে না।

আর দর্শক আপনার ব্লগ ভিজিট করে তার জন্য উপকারী কোন তথ্য খুঁজে না পেলে পরবর্তীতে সে আর আপনার ব্লগে ভিজিট করবেনা।

ফলশ্রুতিতে ব্লগ তৈরি করে আয় করার ইচ্ছা মরীচিকা হয়েই থাকবে।

ব্লগ তৈরি করে আর্টিকেল প্রকাশ করার উপযোগী কয়েকটি জনপ্রিয় বিষয় বা নিস

  • লাইফস্টাইল
  • বিনোদন
  • সাহিত্য ও সংস্কৃতি
  • খেলাধুলা
  • তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি
  • মোবাইল ও টেলিকমিউনিকেশন
  • অনলাইনে আয়
  • চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য সেবা
  • মা ও শিশু স্বাস্থ্য পরিচর্যা
  • ওজন বৃদ্ধি ও কমানোর উপায়, ইত্যাদি।

ব্লগ কিভাবে সাজাবো?

৫। আপনার ব্লগ ডিজাইন করার জন্য বিষয়-বস্তুর সাথে মানানসই একটি থিম নির্বাচন করুন।

আপনি আপনার ব্লগটি যতটা সুন্দর করে সাজাতে পারবেন ঠিক ততটাই তা দর্শক মনে দাগ কাটতে সক্ষম হবে। কথায় আছে না-

আগে দর্শনধারী পরে গুণবিচারী।

এরজন্য আপনাকে একটি ভালো মানের ওয়ার্ডপ্রেস প্রিমিয়াম থিম কিনে তা ব্লগে ব্যবহার করতে হবে।

একটি সুন্দর ও আকর্ষণীয় প্রিমিয়াম থিম কিনতে বড়জোর ৩০ থেকে ৬০ ডলার খরচ করতে হতে পারে।

আপনি ইচ্ছে করলে নিচে প্রদর্শিত বিজ্ঞাপন থেকে আপনার ব্লগের বিষয়বস্তুর সাথে মানানসই একটি প্রিমিয়াম থিম কিনে ব্যবহার করতে পারবেন।

৬। আপনার অপরিহার্য পেজ তৈরি করুন। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, লেখক সম্পর্কিত (About), যোগাযোগ (Contact), ব্লগ ব্যবহার সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা সম্মলিত পেজ (Privacy Policy), সাম্প্রতিক কার্যক্রম (Recent Works), ইত্যাদি।

৭। ব্লগের উৎকর্ষতা বৃদ্ধি, বিভিন্ন বৈশিষ্ঠ্য সংযোজন, নিরাপত্তা বৃদ্ধি, সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন, ইত্যাদি প্রয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ ওয়ার্ডপ্রেস প্লাগইনগুলো ইনস্টল করে নিন।

ওয়ার্ডপ্রেস ব্লগ বা ওয়েবসাইটে বিভিন্ন প্রয়োজনে বিভিন্ন ধরণের প্লাগইন ইন্সটল করা হয়। নিচে প্রদত্ত লিংকে ওয়ার্ডপ্রেস এর সর্বাধিক জনপ্রিয় ১০টি প্লাগইনস ও তাদের কার্যকারিতা সম্বন্ধে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। প্রয়োজন মনে হলে পড়ে নিতে পারেন।

পড়ুন- ওয়ার্ডপ্রেস এর সর্বাধিক জনপ্রিয় ১০টি ফ্রি প্লাগইন।

৮। একটি নিয়মিত প্রকাশনা সময়সূচী নির্ধারন করুন।
৯। ব্লগে ব্যবহার করার জন্য ছবি এবং লোগো ডিজাইন করে নিন ও ব্যবহার করুন।
১০। ব্লগে নিয়মিত তথ্যপূর্ণ লেখা প্রকাশ করুন এবং আপনার লেখা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে এবং সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন বা এসইও করে দর্শক বৃদ্ধি করুন।

পড়ুন- সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন বা এসইও কি?

এবং- সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন করে ভিজিটর বৃদ্ধি করার ১১টি প্রধান কৌশল।

ব্লগ থেকে কিভাবে টাকা আয় করা যায়?

১১। আপনার ব্লগ দর্শক প্রিয় হয়ে উঠলে উক্ত ব্লগে গুগল এডসেন্সঅ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর মাাধ্যমে অর্থ উপার্জন করা শুরু করুন।

বিস্তারিত জানতে পড়ুন-

গুগল এডসেন্স কি? এডসেন্স থেকে কিভাবে অনলাইনে টাকা আয় করা যায়?

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে কিভাবে অনলাইনে টাকা আয় করা যায়?

অন্যান্য উপায়ে ব্লগ থেকে টাকা উপার্জন করার পদ্ধতি

উপরে উল্লেখিত এডসেন্স ও অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং ছাড়াও অন্যান্য কিছু পদ্ধতি প্রয়োগ করে ব্লগ তৈরি করে অনলাইনে টাকা আয় করা যায়। নিচে তাদের মধ্যে জনপ্রিয় কিছু মাধ্যমের কথা উল্লেখ করা হলো।

ইবুক বা টিউটোরিয়াল উপকরণ বিক্রি করে

আপনি ইচ্ছে করলে আপনার ওয়ার্ডপ্রেস ব্লগে বিভিন্ন বিষয়ের উপর তথ্য সমৃদ্ধ প্রবন্ধ, নিবন্ধ, গবেষণামূলক প্রবন্ধ, নিরীক্ষাধর্মী রচনা, অনুশীলনমূলক আলোচনা, শিক্ষামূলক টিউটোরিয়াল প্রভৃতি যুক্ত করে ইবুক তৈরি করে তা বিক্রি করে আয় করতে পারেন।

অনলাইনে আয় করার ক্ষেত্রে এই পদ্ধতিটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও কার্যকর। বিশ্বের প্রায় প্রতিটি জনপ্রিয় অনলাইন ব্লগে একটু খুঁজলেই এই ধরণের ইবুক বিক্রি করে অনলাইনে আয় করার প্রবণতা লক্ষ্য করতে পারবেন।

মূল্য সংযোজনকৃত সেবা প্রদানের মাধ্যমে

এটি হচ্ছে -অনলাইন ব্লগ ব্যবহার করে টাকার বিনিময়ে সেবা প্রদানের একটি পদ্ধতি।

উদাহরণস্বরূপ বলা যায়- ধরে নিন, আপনি একটি ব্লগ বা ওয়েবসাইট তৈরি করতে ইচ্ছুক। কিন্তু কিভাবে একটি ওয়েবসাইট খোলা যায় তা আপনি জানেন না। এক্ষেত্রে আপনি আমার ওয়েবসাইটে ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য বিবেচনাযোগ্য বিভিন্ন প্যাকেজ পড়ে তা থেকে একটি প্যাকেজ ক্রয় করার জন্য ইচ্ছুক হয়ে আমার সাথে যোগাযোগ করে প্যাকেজটি কিনে নিলেন।

মূল্য সংযোজনকৃত সেবা প্রদান বলতে এই ধরণের কাজের বিনিময়ে আর্থিক লেনদেন বা ক্রয়-বিক্রয়কে বোঝানো হয়েছে।

সরাসরি খাদ্য বা পণ্য বিক্রি করে

আপনি ইচ্ছে করলে আপনার ব্লগ ব্যবহার করে অনলাইনে খাদ্যপণ্য বিক্রি করতে পারেন।

অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে

অনলাইনে বিভিন্নভাবে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আয় করা যায়। আপনি হয়তো লক্ষ্য করেছেন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ইতিমধ্যে তাদের ই-শিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আপনিও ইচ্ছে করলে কোন নির্দিষ্ট বিষয়ে অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আয় করতে পারবেন।

ড্রপসিপিং ব্যবসা করে

ড্রপসিপিং ব্যবসা হচ্ছে- অন্য কোন প্রতিষ্ঠানের পণ্য নিজের ব্লগে প্রদর্শন করার মাধ্যমে বিক্রি করে মূল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পাইকারি দরে পণ্য কিনে গ্রাহক বা ক্রেতার কাছে খুচরা দরে বিক্রি করে আয় করা।

ব্লগে আগ্রহী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন প্রচার করে

আপনার ব্লগটি অনেক বেশি দর্শকপ্রিয় হয়ে উঠলে আপনি ইচ্ছে করলে আপনার ব্লগের নির্দিষ্ট কিছু জায়গা বা স্লট বিজ্ঞাপনের জন্য ভাড়া দিয়ে আয় করতে পারবেন।

বিভিন্ন পণ্য বা প্রতিষ্ঠানের জন্য স্পন্সর আর্টিকেল বা নিবন্ধ লিখে তা ব্লগে প্রকাশ করে আয়

এই বিষয়টি একটু ব্যাখ্যার দাবী রাখে। আপনার ব্লগ যখন জনপ্রিয় হয়ে উঠবে তখন আপনি ইচ্ছে করলে আপনার ব্লগে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বা পণ্যের রিভিউ বা পণ্যের গুণাগুণ প্রকাশ করে আর্টিকেল লিখে ঐ প্রতিষ্ঠান বা পণ্যের প্রস্তুতকারকের কাছ থেকে সম্মানি গ্রহণ করে আয় করতে পারবেন।

এক্ষেত্রে প্রধান শর্ত হচ্ছে- আপনার ব্লগটি যথেষ্ঠ জনপ্রিয় হতে হবে। এতে করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্যের প্রচারের জন্য নিজেরাই আপনার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।

অথবা আপনি নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মার্কেটিং ডিপার্টমেন্ট এর সাথে যোগাযোগ করে তাদের পণ্যের রিভিউ আর্টিকেল প্রকাশের বিনিময়ে তাদেরকে স্পন্সর হবার জন্য অনুরোধ করতে পারেন।

সুন্দর ভাবে ডিজাইন করা ব্লগ বিক্রি করে

ব্লগ বিক্রি করেও প্রচুর টাকা আয় করা সম্ভব। আপনি ইচ্ছে করলে আপনার ব্লগে যথেষ্ঠ সংখ্যক ভালো ভালো আর্টিকেল প্রকাশ করে ব্লগটি জনপ্রিয় করে তা বিক্রি করার মাধ্যমে আয় করতে পারবেন।

আপনার ব্লগটি যত জনপ্রিয় ও দর্শক নন্দিত হবে, আপনি আপনার সেই ব্লগটি বিক্রি করে তত বেশী আয় করতে সক্ষম হবেন। অনলাইনে এমন অনেক ওয়েবসাইট আছে যেখানে আপনি আপনার ব্লগ বিক্রি করার জন্য সাবমিট করতে পারবেন। পরবর্তিতে সাবমিটকৃত ব্লগটি কেনার জন্য কেউ আগ্রহী হলে তারা নিজেরাই আপনার সাথে যোগাযোগ করে আকর্ষণীয় মূল্যে ব্লগটি কিনে নেবেন।

এছাড়াও ওয়ার্ডপ্রেস ব্লগ তৈরি করে অনলাইনে আয় করা বিষয়ে আরো জানতে নিচের লেখাটি পড়ে দেখতে পারেন।

How to Make Money Online Blogging with WordPress

আজ এ পর্যন্তই। ব্লগ ডিজাইন টিউটোরিয়াল এর আগামী পর্বগুলোতে উপরে বর্ণিত বিষয়গুলো নিয়ে আরো কিছু লেখা প্রকাশ করার ইচ্ছে আছে। এই আশাবাদ ব্যক্ত করে শেষ করছি।

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ

আপনি যদি উপরে উল্লেখিত ধাপগুলো অনুসরণ না করে একজন দক্ষ ওয়েব ডিজাইনার এর সাহায্য নিয়ে ব্লগ ডিজাইন করে নিতে চান তবে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।

আমরা অত্যন্ত স্বল্প খরচে আপনার ব্লগ ডিজাইন করে দিতে সক্ষম।

একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ব্লগ ডিজাইনের জন্য কত টাকা খরচ হতে পারে -তা জানতে পূর্বের লিংকটিতে ক্লিক করুন।

এছাড়া আমাদের সেবা সমূহ সম্পর্কে এবং ওয়েব সাইট বা ব্লগ ডিজাইন ও প্রকাশনা বিষয়ক তথ্যাদি বিস্তারিত জানতে নিচের লিংকে ভিজিট করে দেখতে পারেন।

সায়মা আইটি – সেরা মানের ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান।

ধন্যবাদান্তে,
সাব্বির আহমদ রাহিক
মোবাইলঃ +৮৮০১৭২৬-৮৬০৩৫০
ইমেইলঃ info.rahiq@gmail.com

পুনশ্চঃ লেখাটি ভালো লেগে থাকলে অথবা প্রয়োজনীয় মনে হলে শেয়ার করতে ভুলবেন না যেন। কোন জিজ্ঞাসা থাকলে নিচের কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করে জেনে নিতে পারবেন। আশা করি দ্রুত উত্তর পাবেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *